শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৬:২১ অপরাহ্ন


ওসমানীনগরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

ওসমানীনগরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

  • 15
    Shares

শিপন আহমদ, ওসমানীনগর : সিলেটের ওসমানীনগরে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মরত এক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল হক সানি এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম ও বিতর্কিত ঘটনা সৃষ্টি করায় শিক্ষক কর্তৃক তিনি লাঞ্ছিত হওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে গত ৩১ অক্টোবর সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর প্রদান কৃত লিখিত অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউলহক ছানি ওসমানীনগরে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয় পরিদর্শনের নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা আদায়ে মেতে উঠেছেন। বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে তাকে দুপুরের লাঞ্চ করাতে হয়। পরিদর্শনে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে খাবারের আয়োজন করে রাখার জন্য আগে থেকেই বলে রাখেন তিনি। ওই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে মাসুহারা প্রদান করে উপজেলার একাধিক শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন
বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। সম্প্রতি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল হক সানি একটি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অজুহাত দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকের কাছে টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকরা তাঁর কথামত টাকা প্রদানে অনীহা প্রকাশ করায় তিনি ঐ বিদ্যালয়ের নানা বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে স্ট্যাটাস দেন। ঐ স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর জনৈক শিক্ষক তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করেন।

পরবর্তীতে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে চাকুরীবিধি লঙ্ঘন করেছেন এমনটি বুঝতে পেরে বিষয়টি আপোষে নিষ্পত্তি করে নেন। এছাড়া শিক্ষকদের নিয়ে এক মাসিক সভা চলাকালীন সময়ে নারী শিক্ষকদের ইঙ্গিত করে অশালীন মন্তব্য করা নিয়ে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। পরবর্তীতে এ উপজেলায় কর্মরত ওপর এক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে এ বিষয় নিয়ে মন্তব্য প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে পায়ে ধরে বিষয়টি সুরাহ করেন।

উপজেলার তিলা পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী (কাম নৈশ্য প্রহরী) ফরহাদ আহমদের আর্থিক সুবিধা নিয়ে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে বেতন ভাতা উত্তোলনের ব্যবস্থা করে দেন। এ ব্যাপারে তিলাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে দপ্তরী ফরহাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা
নেয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর রেজুলেশনের ফটোকপিসহ লিখিত অভিযোগ প্রদান করলেও ওই কর্মকর্তার গোপন সেল্টারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরীর বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গত দুই মাস থেকে দপ্তরী ফরহাদ কর্মরত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও দৈনিক হাজিরা খাতায় ফরহাদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চাপ প্রয়োগ করছেন।

এছাড়া দপ্তরী ফরহাদের বিরুদ্ধে দেয়া লিখিত অভিযোগটি আপোষে নিষ্পত্তি ও মাসিক বেতন বিলের কাগজে স্বাক্ষর
করে দেবার জন্য বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও একাধিক সদস্যদের বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ প্রয়োগসহ দেখে নেয়ারও হুমকি প্রদান করছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষকসহ ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানায়,সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হক ছানির অনিয়মের কারণে নিরীহ
শিক্ষকদের হয়রানী পোহাতে হয়। নবাগত শিক্ষা কর্মকর্তা এসব অনিয়মের প্রশ্রয় না দেয়ায় বর্তমানে ক্ষোদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অন্যান্য কর্মরতদের সাথে তিনি অশালীন আচরণসহ নানা অজুহাতে অফিসিয়াল কাজকর্মে অসহযোগিতা করে ইচ্ছামতো অফিসে যাওয়া আসা করছেন।

চলতি বছরের সমাপনই পরীক্ষার উত্তরপত্র নিজের কমিশন প্রাপ্ত নিদিষ্ট প্রেসে ছাপাতে না দেয়ায় বিভিন্ন ভাবে অফিস সংশ্লিষ্টদের ফাঁসানোর চেষ্টাসহ পরীক্ষায় চলাকালীন সময়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় পায়তারায় লিপ্ত রয়েছেন।
লিখিত অভিযোগকারীদের মধ্যে আব্দুল আহাদ, নজরুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ছানির সেল্টারে দপ্তরী ফরহাদ স্বাক্ষর জ্বাল করে বেতন ভাত উত্তোলন করে নিয়েছে। গত দুই মাস ধরে ওই দপ্তরী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি অশালীন আচরণের বিষয়ে আমরা তাকে অবগত করলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। উল্টো ওই
শিক্ষা কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে দপ্তরী ফরহাদের পক্ষাঅবলম্ভন করে হাজিরা খাতায় দপ্তরী ফরহাদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করাসহ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করার জন্য প্রধান শিক্ষককে চাপ প্রয়োগ করছেন। দপ্তরীর বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগ তুলে আনার জন্য কমিটির সভাপতিসহ একাধিক সদস্যদের
চাপ প্রয়োগ ও দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করেন।

অভিযুক্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল হক সানি অভিযোগগুলি অস্বীকার করে বলেন,এসব মিথ্যা আমি শুধুমাত্র চা ছাড়া কারো কাছ থেকে কিছুই খাই না।এটা আমার উর্ধ্ধতন কর্মকর্তারাও জানেন। আর বর্তমানে ওই দপ্তরীর বেতন বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা চলতি দায়িত্ব আব্দুল মুমিন মিয়া বলেন,উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে এব্যাপারে দাখিলকৃত অভিযোগটির বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে ওই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস কর্মরত অন্যান্যদের সাথে অশালীন আচরণের যে অভিযোগ তা ঠিক নয়,আর সমাপনি পরিক্ষা বানচাল করার প্রশ্নই উঠে না। তবে কেউ সমাপনই পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে অবশ্যই তাৎক্ষনিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বায়েজীদ খান এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটির তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিলেট প্রতিদিন/এমজে


  • 15
    Shares




পুরানো সংবাদ

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  


© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com