শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৫:১৬ অপরাহ্ন


কমলগঞ্জে রবীন্দ্রনাথ ও মনিপুরী সংস্কৃতির শতবর্ষ উপলক্ষে শোভাযাত্রা

কমলগঞ্জে রবীন্দ্রনাথ ও মনিপুরী সংস্কৃতির শতবর্ষ উপলক্ষে শোভাযাত্রা

  • 10
    Shares

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ও মনিপুরী সংস্কৃতির শতবর্ষের সেতুবন্ধন উপলক্ষে মনিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতি, মনিপুরী ললিতকলা একাডেমী, মনিপুরী যুবকল্যান সমিতি, মনিপুরী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, মনিপুরী থিয়েটার ও পৌরি’র যৌথ আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় মনিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতি ৬ নভেম্বরকে ‘মনিপুরী নৃত্য দিবস’ ঘোষণা করে।

বুধবার (৬ নভেম্বর) সকালে এ উপলক্ষে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক, জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. হেলাল উদ্দিন, লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ মনিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিংহ, সাধারণ সম্পাদক কমলাকান্ত সিংহ প্রমুখ। শোভাযাত্রা শেষে মাধবপুরস্থ মনিপুরী ললিতকলা একাডেমীতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মনিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিংহের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কমলাকান্ত সিংহের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, লেখক ও গবেষক ড. রঞ্জিত সিংহ, লেখক ও গবেষক, আহমদ সিরাজ, কমলকুঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ , মনিপুরী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ধীরেন্দ্র কুমার সিংহ, ললিতকলা একাডেমীর গবেষণা কর্মকর্তা প্রভাষ সিংহ, নাট্য নির্দেশক শুভাশিষ সমীর প্রমুখ। সভা শেষে মনিপুরী ললিতকলার শিল্পীরা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ স্মরণে রবীন্দ্রসংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৯ খ্রীঃ এর নভেম্বর মাসে সিলেটে বেড়াতে এলে প্রথমে মনিপুরী হস্তশিল্প ও এর কারুকাজ দেখে তিনি অভিভূত হন। পরে তিনি জানতে পারেন যে, এই হস্তশিল্পের কাপড় মনিপুরীদের তৈরি। তিনি সিলেটের মণিপুরীপাড়ার মাছিমপুরে গিয়ে মনিপুরী রাখালনৃত্য দর্শন করে মুগ্ধ হয়ে রাসলীলা নৃত্য দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কবিগুরু মনিপুরী রাসনৃত্যর সাজসজ্জা, সাবলীল ছন্দ ও সৌন্দর্যে বিমোহিত হন এবং কলকাতার শান্তিনিকেতনে ছেলেমেয়েদের নৃত্য শেখাবার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে কলকাতার শান্তিনিকেতনে প্রথমবারের মতো মনিপুরী নৃত্য ব্যবহার করে মঞ্চস্থ হয় য়ঁড়নটীর পুজ্য়াঁড় ও য়ঁড়ঋতুরাজ্য়ঁড়। পরে কবিগুরুর আমন্ত্রণে যোগ দেন মনিপুরী রাসনৃত্যের গুরু মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বালিগাঁও গ্রামের নীলেশ্বর মুখার্জ্জী।

রবীন্দ্রসংগীতের গভীরতা ও কাব্যময়তার সাথে মনিপুরী নৃত্যের সাবলীল গতি ও বিশুদ্ধ নান্দনিকতার মধ্যে বিশেষ সামঞ্জস্য থাকায় শান্তিনিকেতনে উচ্চাঙ্গ নৃত্যধারার মধ্যে মনিপুরী নৃত্য সর্বাপেক্ষা সমাদৃত হয়। এরপর বাংলাদেশে এবং সারা ভারতে মনিপুরী নৃত্যের প্রচার ও প্রসার ঘটে। কবিগুরুর ছোঁয়ায় মনিপুরী নৃত্য সারাবিশ্বে পরিচিত লাভ করে। কবিগুরুর ছোঁয়ায় মনিপুরী নৃত্য সারাবিশ্বে পরিচিত লাভ করে। আলোচনা শেষে ৬ নভেম্বর মনিপুরী নৃত্য দিবস ঘোষণা করা হয়। সভায় বক্তারা রবীন্দ্রনাথের একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। পরে মনিপুরী ললিতকলার শিল্পীরা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ স্মরণে কবিতা, রবীন্দ্রসংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

সিলেট প্রতিদিন/এমজে


  • 10
    Shares




পুরানো সংবাদ

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  


© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com