বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন


মেয়র আরিফের দখল করা ভূমি ফিরিয়ে দিল আদালত

মেয়র আরিফের দখল করা ভূমি ফিরিয়ে দিল আদালত


প্রতিদিন প্রতিবেদক :: সিলেট নগরীর শেখঘাট খুলিয়াপাড়ায় উদ্ধার করা সেই ৩৭ শতক মূল্যবান ভূমিটুকু এবার মালিককে ফিরিয়ে দিল সিলেট সিটি করপোরেশন । সোমবার সকালে সিটি করপোরেশনের পক্ষে ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত শন্তু ও সিসিকের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ভূমির মালিক সফিউর রহমান চৌধুরীর উত্তরাধিকারীদের নিকট সবকিছু সমজিয়ে দেন। এর আগে গত ২১ জুলাই সিসিকের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ভূমিটুকু সিসিকের মালিকানাধীন এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে দাবী করে দখলে নেন। সেই সাথে সিসিকের সাইনবোর্ড ও সাঁটিয়ে দেন তিনি।

ভূমির মালিক মরহুম সফিউর রহমান চৌধুরীর পুত্র হুমায়ুন কবির চৌধুরী জানান, নগরীর ১৩নং ওয়ার্ডের শেখঘাট খুলিয়াপাড়া মিউনিসিপ্যালিটি মৌজার জে এল নং- ৯১ এর ৩৭৫১ ও ৩৭৫২ নং দাগে মোট ৩৭ শতক জমির প্রকৃত মালিক তারা। তার পিতার ক্রয়সূত্রে প্রকৃত উত্তরাধিকারী হিসেবে তারা সেটা ভোগদখল করে আসছেন। তিনি বলেন, ১৯২৮ ইং সালে জনৈক যুগেশ ব্যানার্জী তৎকালীন মিউনিসিপ্যালিটি থেকে ২০ বছরের জন্য এ ভূমি লীজ আনেন। যুগেশ ব্যানার্জী মারা যাওয়ার পর এর উত্তরাধিকারী হন তার ছেলে সুধাংশু ব্যানার্জী।

১৯৪৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার টাউন ট্যালেন্স অ্যাক্ট ঘোষণা করে। এ আইণে বলা হয় যে যেখানে আছেন তিনি ঐ ভূমির মালিক। ফলে সুধাংশু ব্যানার্জী আইণগতভাবে মালিকানা লাভ করেন। এই সুধাংশু ব্যানার্জীর নিকট মরহুম সফিউর রহমান চৌধুরীর ৫ হাজার টাকা পাওনা ছিল। দেশ ভাগ হওযার পর সুধাংশু ব্যানার্জী ভারতে চলে যান। পরে টাকা চেয়ে সফিউর রহমান চৌধুরী চিঠি লিখেন সুধাংশুর নিকট। সুধাংশু ফিরতি চিঠিতে উল্লেখ করেন, তিনি টাকা দিতে না পারলে দেশে যে জায়গাটুকু আছে তা সফিউর রহমান চৌধুরীকে দিয়ে দেবেন। এর পর থেকে সুধাংশু দেশে আসেনননি।

এমতাবস্থায় সফিউর রহমান চৌধুরী এ চিঠিসহ ১৯৪৯ সালে ভারতের আদালতে মামলা দায়ের করেন। চার বছর পর ১৯৫৩ সালে আদালত সফিউর রহমান চৌধুরীকে ভূমি সমজিয়ে দিতে রায় দেয়। এ রায়ের প্রেক্ষিতে তৎকালীন সময়ে চট্রগ্রাম থেকে কমিশন এসে রেকর্ড সমজিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে ভূমিটুকু সফিউর রহমান চৌধুরীর নামে রেকর্ড হয়।

মালামাল নিয়ে যাচ্ছে সিসিক কতৃপক্ষ

এদিকে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন পৌরসভা ভ’মি উদ্ধারের মামলা করে। দীর্ঘ শুনানী শেষে ১৯৯০ সালে আদালত সফিউর রহমান চৌধুরীর পক্ষে রায় দেয়। পরবর্তীতে ২০০২ সালে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ রায়ের বিপক্ষে উচ্চ আদালতে আপীল করলে আদালত জানান, সিআর নং ৬৫১৬/০২ মোকদ্দমাটি বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে শুনানীর জন্য প্রস্তুত অবস্থায় বিচারাধীন আছে এবং নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। এরই মধ্যে উচ্চ আদালতের পরবর্তী কোন আদেশ না নিয়েই এবং মালিক পক্ষকে কোন নোটিশ প্রদান না করে গত ২১ জুলাই আকস্মিক ভ’মি উদ্ধারে যান সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

এ ঘটনার পর গত ২৪ জুলাই ভূমি মালিক পক্ষের আইণজীবি মঞ্জুর আল মতিন সিসিক মেয়রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। মেয়র এ নোটিশের কোন জবাব দেননি। সংশ্লিষ্ট আইণজীবি বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনলে আদালত মেয়রকে শোকজ করেন এবং ভ’মির প্রকৃত মালিককে সমজিয়ে দিয়ে স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এ প্রেক্ষিতেই সোমবার মালিকদের নিকট ভূমিটুকু সমজিয়ে দিল সিসিক।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিসিকের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত শন্তু বলেন, আদালতের নির্দেশে সিসিকের পক্ষে ভূমির মালিককে সমজিয়ে দিতে এসেছে। এর বাইরে কোন কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। ভ’মির মালিক সফিউর রহমান চৌধুরীর পুত্র হুমায়ুন কবির চৌধুরী বলেন, আমরা ভূমিটুকু সমজিয়ে পেয়েছি তবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হলাম। কয়েক লক্ষ্য টাকা আমাদের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তবে ভ’মিটুকু ফেরত পেয়ে আনন্দিত তিনি।

সিলেট প্রতিদিন/এসএল





পুরানো সংবাদ

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  


© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com