l

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন


শান্ত জনপদ সুনামগঞ্জের অশান্ত এক নাম জিয়াউল হক

শান্ত জনপদ সুনামগঞ্জের অশান্ত এক নাম জিয়াউল হক

  • 29
    Shares

প্রতিদিন প্রতিবেদক : জিয়াউল হক। শান্ত জেলা শহর সুনামগঞ্জের এক অশান্ত নাম। জিয়াউল হকের অশান্ত হয়ে উঠার গল্পটা একেবারেই নতুন। গেলো একযুগ আগেও এইনামটি ছিল অখ্যাত। এখন সেই অবস্থা নেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। এই নামের পরিচিতি এখন জনপদের সর্বত্র। নাম শুনলেই ভয়ে আতঁকে উঠতে হয় যুবক-বৃদ্ধ সবাইকে। যুক্ত ছিলেন বিএনপির রাজনীতিতে। সময়ের সাথে পাল্টে ফেলেছেন মত ও মতের। সুনামগঞ্জের বহুল আলোচিত দুর্নীতিবাজ সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের সহযোগিতায় এখন তিনি বড় কুটুম আওয়ামী লীগের।
কি নেই জিয়াউল হকের ? নদী,বিল, কবরস্থান, মার্কেট, টেন্ডার, ঠিকাধারী সব কিছুতেই অবিরাম তিনি জানান দিচ্ছেন নিজের দাপটি অস্থিত্ব। জিয়াউল হকের হুকুম ছাড়া সুনামগঞ্জে গাছের একটি পাতাও নড়েনা-এমন কথাও জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাছননগরের এক বাসিন্দা। থানা প্রশাসনকেও রীতিমতো ধরনা দিতে হয় জিয়াউল হকের কাছে।
মোট কথা-সুনামগঞ্জের অঘোষিত প্রিন্স এই জিয়াউল হক। সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে এই জিয়াউল হক। যৌবনে জিয়াউল হকের পিতা নুরুল হক পান বিক্রী করে জীবিকা চালাতেন। একসময় পেশা বদল করে চলে যান ফল বিক্রীতে। পরে যুক্ত হন দাদন ব্যবসায়। দাদন ব্যবসার মাধ্যমে সুনামগঞ্জের অনেক লোককে পথে বসতে হয়েছে-এমন অভিযোগও রয়েছে নুরুল হকের উপর। এই বিষয়গুলো জানিয়েছেন তেঘরিয়া এলাকার লোকজন। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস না পেয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্ত জোড়ে দেন সকলেই। সেই জিয়াউল হকের পরিবারে একটা সময় তেমন আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলেও তিনি এখন প্রায় হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক।
দুদকে দায়ের করা অভিযোগে শাহীন চৌধুরী উল্লেখ করেন, সুনামগঞ্জের যাদুকাটা, ওয়েজখালী নদী থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে জিয়াউল হক অবৈধ বালু পাথর উত্তোলন করেন। সাথে রয়েছে টেন্ডারবাজী ও চাঁদাবাজীসহ নানা অপকর্ম। জিয়াউল হকের বাহিনীতে নিযুক্ত রয়েছেন শহরের দাগি একাধিক অপরাধী। এই বাহিনীর মধ্য দিয়েই সকল অপকর্ম নির্বিঘেœ চালাতে সমর্থ হন তিনি। শহরতলীর সার্কিট হাউজের সামনে সুইমিংপুল বিশিষ্ট বাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। ওয়েজখালিতে একটি বাগানবাড়ি রয়েছে-যার মূল্য আনুমানিক ৫ কোটি টাকা। ওয়েজখালিতে রয়েছে হক সুপার মার্কেট, হক অটো রাইস মিল, শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন দাস ব্রাদার্স, দেশবন্ধুসহ নামে-বেনামে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এখানেই শেষ নয়, সদর থানার গৌরারং ইউনিয়নের শনির হাওর,খরচার হাওর ও লাইয়ার হাওরে আছে অনেকগুলো অবৈধ বিল। সেখানে রয়েছে জমির মালিকানাও। সেখানে নিজের নামে একটি ইটখলাও রয়েছে এই দখলদারের।
বিএনপির রাজনীতিতে দীক্ষিত হলেও সরকার পরিবর্তনের পর তিনি আওয়ামী পরিবারের সাথে বাড়িয়ে দেন ঘণিষ্টতা। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ থেকে সংসদ সদস্য সবার কাছেই এই নামটি অগ্রগণ্য। নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় যে কোনো নির্বাচনে বিরাট একটি যোগান আসে এই জিয়াউল হকের পকেট থেকে। এর ফলে নেতাদের সমীহ আদায় করতে পেরেছেন খুব সহজেই। মোট কথা- এখন সুনামগঞ্জের আওয়ামী পরিবারের বড় আত্মীয় হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন জিয়াউল হক। জেলা সভাপতি মতিউর রহমান এবং সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের একনিষ্ট জন হিসেবে সুনামগঞ্জের নতুন আতঙ্ক তিনি।
হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জের এমন কোনো হাওর বা জলাশয় নেই- যেখানে লোকজন নেই জিয়াউল হকের। হাওরের মাছ,নদীর চর থেকে বালু উত্তোলন সব অবৈধ কার্যক্রম বৈধ হয়ে যায় জিয়াউল হকের বেলায়। অবৈধ উপার্জনের ভাগ পেয়ে থাকেন জেলা প্রশাসন থেকে থানা পর্যন্ত। ভাগ পান কিছু সংখ্যক স্থানীয় সংবাদকর্মীও। ফলে পত্রিকায় প্রচার হয়না সুনামগঞ্জের আলোচিত এই নব্য ব্যবসায়ীর অবৈধ বাণিজ্য। জিয়াউল হকের রয়েছে একটি দৈনিক পত্রিকাও। পত্রিকার নাম দৈনিক সুনামকণ্ঠ। পত্রিকা প্রকাশের পর পরই তিনি হয়ে উঠেন অপ্রতিরোধ্য। এ ব্যাপারে আগামী সোমবার থাকছে আরো একটি প্রতিবেদন।


  • 29
    Shares




পুরানো সংবাদ

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  


© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com