সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন


সাহেবের বাজার অঞ্চলকে অপরাধমুক্ত করে গেলেন পুলিশ অফিসার আব্দুল আজিজ

সাহেবের বাজার অঞ্চলকে অপরাধমুক্ত করে গেলেন পুলিশ অফিসার আব্দুল আজিজ

  • 1.6K
    Shares

মো. মতিউর রহমান: সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার কালাগুল পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন সাহেবের বাজার অঞ্চলকে অপরাধীদের হাত থেকে মুক্ত করে দিয়ে গেলেন সদ্য বিদায়ী ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আব্দুল আজিজ। তবে তিনি যেখানেই থাকবেন ভাল থাকবেন এই কামনা করেন সাহেবের বাজার অঞ্চলের সর্বস্থরের জনগণ।

২০১৪ সালের শেষ দিকে হঠাৎ করে অশান্ত হয়ে উঠে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার আওতাধীন সাহেবের বাজার এলাকা। তখন এই এলাকার আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘঠে। এ সময় পুলিশ বিজিবি অপরাধ দমনে একাধিকবার যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে বেশ কয়েকটি অভিযান চালানো হয়। তারপরও সব কয়টি অভিযানে ব্যর্থ হয় পুলিশ। এ সময় এই এলাকার আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটে। কালাগুল চা বাগান, সাহেবের বাজার, মাখরখলা, দেবাইর বহর সহ আশপাশ এলাকার কতিপয় কয়েক শত যুবক মিলে গড়ে তুলে একটি সংগঠন। সাহেবের বাজারে ২০১৪ সালে সংগঠিত হয় চাঞ্চল্যকর মাসুক হত্যাকান্ড সহ এলাকায় সংগঠিত হয় একাধিক ডাকাতির ঘটনা।

এ সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠে কালাগুল চাগান, বন্ধ হয়ে যায় চা বাগানের সব কার্যক্রম। দীর্ঘ ৫ মাস বন্ধ থাকে চা বাগান। ফলে কোটি কোটি টাকার লোকসান হয় চা শিল্পের। একটি গোষ্ঠীর কারণে চা বাগান বন্ধ থাকার ফলে চা শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন পার করেন। এয়ারপোর্ট থানা থেকে সাহেবের বাজার অঞ্চলটি অধিক দুরে অবস্থিত থাকায় তৎসময় যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় অপরাধীরা নির্দিধায় অপরাধ সংগঠিত করে।

প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ২০১৪ সালে সাহেবের বাজার অঞ্চলে স্থাপন করা হয় পুলিশ ক্যাম্প। যার নাম করণ করা হয় কালাগুল পুলিশ ক্যাম্প। পরে তৎসময় উপ- পুলিশ কমিশনার (উত্তর) এর দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ফয়সল মাহমুদ এই অঞ্চলের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালান। পরে তার নির্দেশে এই পুলিশ ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ক্যাম্পের ইনচার্জ হিসাবে পাঠানো হয় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের এক সাহসী চৌকস পুলিশ অফিসার এসআই মো. আব্দুল আজিজকে। তিনি কালাগুল পুলিশ ক্যাম্পে এসে যোগ দেওয়ার পরপরই পাল্টে যায় পুরো অঞ্চলের চিত্র।

পুলিশের সাহসী এসআই মো. আব্দুল আজিজ দ্বায়িত্ব পাওয়ার পর, তাহার নেতৃত্বে চলে একের পর এক সফল অভিযান, প্রতিটি অভিযানে গ্রেফতার করা হয় এজাহার ও ওয়ারেন্ট ভুক্ত শীর্ষ আসামীদের। অল্পদিনে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা স্বাভাবিক হওয়ায় তখন থেকেই সৎ অফিসার এসআই আব্দুল আজিজ সহজেই এলাকার সাধারণ মানুষের মন জয় করে নেন। তিনি অল্প দিনের মধ্যে এলাকায় পুলিশের একজন সৎ অফিসার ও গরীবের বন্ধু হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। উত্তপ্ত হয়ে উঠা এলাকাকে শান্ত করার লক্ষ্যে এলাকার সাধারণ জনগনকে সাথে নিয়ে চলে একের পর এক সফল অভিযান। ধীরে ধীরে অল্প দিনের মধ্যে জনমনে ফিরে আসে স্বস্তি। সেই সময় প্রায় ২শত ৫০ টির মত ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। আব্দুল আজিজ এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে করেছেন সাধ্যমত সাহায্য সহযোগিতা।

পুলিশ নিয়ে অনেকের বিরূপ ধারণা থাকলেও সেই ধারণা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমান করে দিয়ে গেলেন এয়ারপোর্ট থানার (এসআই) ও কালাগুল পুলিশ ক্যাম্পের সদ্য বিদায়ী ইনচার্জ মো. আব্দুল আজিজ।

তিনি ছিলেন একজন ব্যতিক্রমধর্মী মিষ্টভাষী পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিনিয়ত তিনি সহকর্মী ও সাধারণ জনগণের আদর্শগত ভিন্নতা মেনে নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করে গেছেন জনগন ও দেশের কল্যাণে। “পুলিশ জনগণের বন্ধু” তিনি এই বাক্যটির উৎকৃষ্ট নিদর্শন। পুলিশ শব্দের সঙ্গে ঘুষ শব্দকে সমার্থক হিসেবে যারা সরলীকরণ করতে ভালোবাসেন তাদের কাছেও মাঝে মাঝে ভিন্ন ভিন্ন নজির হয়ে দেখা দেন কেউ কেউ। তেমনি এক সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন তৈরী করেছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মো. আব্দুল আজিজ একজন আদর্শ পুলিশ অফিসার যিনি তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আধুনিকতা, প্রযুক্তি ও সততা এবং মেধার দক্ষতা দিয়ে অপরাধ দমন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের কল্যাণে। “পুলিশ জনতার, জনতা পুলিশের” এই শ্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন এই পুলিশের এসআই। তিনি সাহেবের বাজার অঞ্চলে যতদিন ছিলেন মানুষের চোখে একজন সৎ, আদর্শবান, ন্যায়নিষ্ঠ ও গরিবের বন্ধুসুলভ পুলিশ অফিসার হিসাবে পরিচিত ছিলেন। অধিকাংশ মানুষই তাকে গরিবের বন্ধু বলে সম্বোধন করে। তিনি এই অঞ্চলে দ্বায়িত্বকালীন সময়ে তার বিচক্ষণ বুদ্ধিমত্তা এবং মেধার বিকাশে তার দায়িত্বরত এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখল বাজদের হাত থেকে মুক্ত করেছেন এলাকাকে। তার চোখে ধনী-গরীব, রিক্সাচালক হতে সব শ্রেনীপেশার মানুষ সবাই ছিল সমান। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বেশে মানুষের মাঝে উপস্থিত হয়ে মানুষের সুখ দুঃখের কথা শুনেছেন। শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তাই নন পাশাপাশি এলাকায় অনেক সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে রেখেছেন বিশেষ অবদান।

একজন চৌকস, পেশাদার পুলিশ অফিসার হিসাবে আইনশৃংখলা রক্ষা, মানবাধিকার, মানবিকতার নানা গুণাবলি মিশে সাদাসিধে জীবনের অধিকারী এই পুলিশ কর্মকর্তার। আশপাশে চোখ দিয়ে তাকালেই অগনিত কালো টাকার ছড়াছড়ি, কিন্তু এতদ:সত্যেও তার লোভ লালসাহীন কর্মতৎপরতা, এজন্য তাকে এনে দিয়েছে এলাকায় অসংখ্য সম্মান। পেয়েছেন বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সম্মাননা। গোটা সাহেবের বাজার অঞ্চলে তার পরিচয় ছিল একজন শতভাগ সৎ পুলিশ অফিসার হিসাবে। বিভিন্ন সময়ে সামাজিক অনুষ্ঠান, সভা সমাবেশে শুনা যেত তার কর্মতৎপরতার অনেক সুনাম। তিনি সততার চাদরে আবৃত ব্যপ্তিময় চলাফেরার কারণে ইতিপূর্বে সাহেবের বাজার অঞ্চলের সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছিলেন।

একজন আদর্শ, সৎ পুলিশ অফিসার হিসাবে তাকে এই অঞ্চলের মানুষ আজীবন এই এলাকায় দেখতে চায়। কিন্তুু নিয়মিত বদলির আদেশের কারণে এই পুলিশ ক্যাম্প থেকে বিদায় নিতে হল এই নিতিবান পুলিশ অফিসারের। তিনি বর্তমানে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় কর্মরত আছেন।

এয়ারপোর্ট থানাধীন কালাগুল পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন সাহেবের বাজার এলাকার বাসিন্দা ও সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট খোরশেদ আলম জানান, এই এলাকা ২০১৪ সালের দিকে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটে এবং নির্মম একটি হত্যাকান্ড ঘটনা ঘটে। এলাকায় বিরাজ করে চরম বিশৃঙ্খলা। তখন এই এলাকায় স্থাপন করা হয় একটি পুলিশ ক্যাম্প। পরে এই সাহসী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ হিসাবে আব্দুল আজিজ যোগদান করার অল্প দিনের মধ্যে এলাকায় ফির আসে শান্তি। সদ্য বিদায়ী কালাগুল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুল আজিজ সাহেব একজন সৎ ও অন্যায়ের কাছে আপোষহীন পুলিশের এসআই ছিলেন। তিনি তার অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ আমাদের এলাকা করে দিয়ে গেছেন প্রায় অপরাধ মুক্ত। তিনি একজন সৎ মানুষ সরকারি বেতনের উপর নির্ভরশীল থাকার পরও এলাকায় বহু আসামিকে তার পকেটের টাকা দিয়ে আইনি সহায়তা দিয়ে গেছেন। পাশাপাশি অনেক অসহায় মানুষকে করেছেন সাধ্যমত সহযোগিতা। যেটি আমার জীবনে আগে কখনও দেখিনি। আমার এলাকায় তাঁর মতো একজন সৎ, ন্যায়নিষ্ঠা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকন্ঠী আওয়াজ তোলা পুলিশ কর্মকর্তা পেয়ে আমরা সত্যিই ধন্য ছিলাম। কিন্তুু তাহার নিয়মিত বদলির কারণে আজ তাহাকে আমরা বিদায় দিতে হয়েছে। তাহার বদলির খবরটি আমাদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক।

 

খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দিলোয়ার হোসেন জানান, বর্তমান সময়ে এ রকম পুলিশ অফিসার পাওয়া খুবই বিরল ঘটনা। তিনি এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় থাকাকালীন সময় সাধারণ জনগণকে যে ভাবে সহায়তা করেছেন তা নিশ্চয় প্রসংশনীয়। আমি তাহার উন্নতি কামনা করি। তাহার বদলির আদেশ শুনে আমি খুব বেশি কষ্ট পেয়েছি। সাধারণ মানুষ তার কাছে গেলে শান্তি পেত। তিনি ছিলেন সত্যিই গরীবের বন্ধু। আমিসহ আমার ইউনিয়নবাসী এই সৎ অফিসারকে সারা জীবন শ্রদ্ধার সাথে সরণ করবে। তিনি যেখানেই থাকবেন ভাল থাকবেন এই কামনা করি।

আব্দুল আজিজ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমদ বলেন, আব্দুল আজিজ একজন শতভাগ সৎ পুলিশ কর্মকর্তা। তার সাহসীকতা এলাকার মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে। তার বদলির খবর পেয়ে আমার খুব খারাপ লেগেছে। সে যে ভাবে সাহেবের বাজার অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে আইনি সহায়তা দিয়ে সেবা করেছে তা নিশ্চয়ই প্রশংসনীয় কাজ। এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে তার সুনামের কথা আমি প্রতিনিয়ত শুনেছি। তখন আমার খুব ভাল লেগেছে। আমি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। তার বদলি সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় হয়েছে জেনে আমি বেশি কষ্ট পেয়েছি। তার জন্য শুভ কামনা রইল যেখানে থাকবে সে যেন ভাল থাকে এই কামনা করি।

 

এ বিষয়ে কালাগুল পুলিশ ক্যাম্পের সদ্য বিদায়ী ইনচার্জ ও সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় কর্মরত মো. আব্দুল আজিজের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, সরকার আমাকে এই এলাকায় পাঠিয়েছিল মানুষের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে। আমি এখানে যতদিন ছিলাম মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমার জানা মত কোন মানুষকে অন্যায় ভাবে হয়রানি করিনি। আমাকে যে উদ্দেশ্যে আমার কর্তৃপক্ষ ঐ এলাকায় পাঠিয়েছিলেন তা আমি যথাযথ ভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। আমরা মানুষের অতন্দ্র প্রহরী আমাদের কাজ হচ্ছে দেশকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চাদাঁবাজ, ইভটিজার মুক্ত করে মানুষের মাঝে শান্তি ফিরিয়ে আনা। আমার কাছে ধনী-গরিব, রিক্সাচালকসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ সমান ছিল। একজন নির্যাতিত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হলো পুলিশ। আমরা যদি তাদের আশ্রয় এবং তাদের সমস্যা নিরসন না করি তাহলে নির্যাতিতরা যাওয়ার জায়গা কোথাও পাবে না। “পুলিশ জনতার এবং জনতা পুলিশের” আমি এই শ্লোগানকে সামনে রেখে এবং সাধারণ মানুষের দোয়া ও ভালবাসা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশকে মাদক, জঙ্গি, সন্ত্রাস মুক্ত করতে কাজ করেছি। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে সব সময় বুকে ধারন করি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের উপর সৃষ্টিশীল কাজ। পুলিশ সব সময়ই জনগণের বন্ধু হিসেবে জনগণের পাশে ছিল এবং আগামীতেও থাকবে। জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া পুলিশের পক্ষে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর সেবা দেয়া সম্ভব নয়। আমি কি করেছি সাহেবের বাজার অঞ্চলের মানুষ জানেন। আমি কতটুকু সেবা দিতে পেরেছি তাও তারা ভাল করে জানেন। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করেছি। এই অঞ্চলের মানুষ যে ভাবে আমাকে ভালোবাসে মনে হয় আমি তাদের পরিবারের সদস্য। আমি তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আমি যেখানেই থাকি আমার শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত আমি মানুষের সেবা করে যাব। আমার বদলির কারণে আমি কোতোয়ালি থানায় সংযুক্ত হয়েছি। আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেখানেই থাকব সততার সাথে মানুষের যেন সেবা করতে পারি।

সিলেট প্রতিদিন/এমএনআই-০৩


  • 1.6K
    Shares






© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com