রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ১২:০৪ অপরাহ্ন


ওসমানীনগরের ঐতিহ্যবাহী গলমুকাপন মাদ্রসা ধংসের পায়তারা

ওসমানীনগরের ঐতিহ্যবাহী গলমুকাপন মাদ্রসা ধংসের পায়তারা

ওসমানীনগর প্রতিনিধি: ওসমানীনগরে ঐতিহ্যবাহী গলমুকাপন দারুসসুন্নাহ মাদ্রাসা পরিচালনায় আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে একটি মহল নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ধংস হতে বসেছে পাঁচশত শিক্ষার্থীর এ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। আর এসব ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন আশ-পাশের ১৫ গ্রামের লোকজন।

জানা যায়, ১৯৫১ সালে এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বিয়ানদের উদ্যোগে পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুকাপনে স্থাপন করা হয় জামেয়া দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানের জন্য এক একর ভূমিদান করেন গলমুকাপন নিবাসী আল্লামা ফখরুদ্দীন (রাহ:) এবং গাভুরটিকি নিবাসী ডা: মর্তুজা (রাহ:)। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও এর উন্নয়নে জড়িত রয়েছেন এলাকার গলমুকাপন, কিয়ামপুর, বড় হাজিপুর, ইশাগ্রাই, কাগজপুর, মশাখলা, জাকিরপুর, কোনাপাড়া পশ্চিমগাঁও, আনরপুর, নোয়াগাঁও, ঈসাপুর, ফকিরাবাদসহ ১৬টি গ্রামের লোকজন। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ১৬ গ্রামের লোকজন আর্থিকসহ সবধরণের সহযোগিতা দিয়ে আসছেন।

প্রবীণদের সমন্বয়ে মাদ্রাসা পরিচালনার ব্যয়ভার বহনসহ যেকোন জটিল সমস্যার সমাধান করা হতো। প্রতিষ্ঠাতা মোহতামিম ফখরুদ্দিন (রহ.) এলাকার বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে মাদ্রাসার হিসাব দিতেন এবং প্রয়োজন মাফিক চাঁদা সংগ্রহ করতেন। অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দ্বীনী শিক্ষার প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও আন্তরিকতার সুবাদে সবাই সাধ্যমত দান করে মাদ্রাসাকে দাঁড় করান্। ফখরুদ্দিন (রহ.)এর মৃত্যুর পর হযরত শেখসাব হুজুর (রহ.) দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উনার দায়িত্ব পালনকালে গলমুকাপন গ্রামের (একাংশ) মানুষ অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের প্রবীণদের উপেক্ষা করে মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন। এমন কি মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ যে কোন সিদ্ধান্তে তারা অন্য গ্রামগুলোর মতামতকে অগ্রাহ্য করেন।

গত ২৫ জুন দারুসসুন্নাহ গলমুকাপন মাদ্রাসার মুহতামীম মাওলানা শায়খে গলমুকাপনী মারা যান। এদিকে তার দাফন সম্পন্নের আগেই সুযোগ সন্ধানীরা মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এসব বিষয়ে এলাকার অন্যান্য গ্রামের বাসিন্দাদের পুরোপুরি অন্ধকারে রাখা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ পেলে ১৬টি গ্রামের লোকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এর আগে জোরপূর্বক মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মোহতামিম (রহ.)এর পুত্র আল্লামা সালমান সাদী, শেখসাব হুজুর (রহ.)এর পুত্রসহ মোট ৫ শিক্ষককে বহিস্কার করেন।

এ ব্যাপারে বড় হাজীপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার হাফিজুর রহমান বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি কোন একক গ্রামের নয়। আময়াদের অত্র অঞ্চলের। বিগত দিনে মাদ্রাসা পরিচালনায় আশপাশের গ্রামের মানুষের পরামর্শ সহযোগিতা নেওয়া হতো। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এখন মাদ্রাসাটিকে একটি চক্র ধ্বংস করে দিচ্ছে।

কোনাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুলতান আহমেদ বলেন, আমাদের এলাকার অহংকার এই ঐতিহ্যবাহী গলমুকাপন মাদ্রাসা। আমরা কখনো এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি গ্রামের মনে করিনি। কিন্তু স¤প্রতি মাদ্রাসাকে নিয়ে একটি চক্রের নানা অপতৎপরতা আমাদের আশপাশের গ্রামের মানুষদের আহত করেছে। মাদ্রাসার সুনাম রক্ষার্থে তারা এসব থেকে বেরিয়ে আসবেন এই প্রত্যাশা আমাদের।

উল্লেখ্য, জামেয়া ইসলামিয়া কওমিয়া দারুসসুন্নাহ গলমুকাপন মাদ্রাসা বৃহত্তর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৫১ সালে দ্বীনি শিক্ষার আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের অনুসরণে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

সিলেট প্রতিদিন/এমএনআই-১১




পুরানো সংবাদ সংগ্রহ



© All rights reserved © 2019 Sylhetprotidin24.Com