শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৪:০০ অপরাহ্ন


সিলেটে দিনদিন বাড়ছে ইন্টারনেট আসক্তি

সিলেটে দিনদিন বাড়ছে ইন্টারনেট আসক্তি

মশাহিদ আলী :: আরিয়ান রহমান সাফফাত  । বয়স মাত্র ৫ বছর । প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে প্রথমে যে কাজটি করে সেটা হলো বাবার মোবাইল হাতে নিয়ে গেইম খেলা। বাবা ছদ্মনাম মাইনুল হোসেন । পেশায় একজন ব্যবসায়ী । ঘুম থেকে উঠে ছেলের আবদার রক্ষা করতে বাধ্য হয়ে মোবাইলে টম এন্ড জেরি বা মটুপাটলু দেখাতে হয়। সেই সাথে মোবাইলে রাখা গেইম আরিফকে এনে দিতে হয়। একটানা ঘণ্টা-দেড়ঘন্টা গেইম খেলে এবং কাটুন দেখে আরিফ। বাবা চলে গেলে মায়ের সাথে কিছুটা সময় পড়া লেখা করে ফের বায়না ধরে মোবাইলের । একটা সময় মা বিরক্ত হয়ে মোবাইল দিয়ে দেন । এভাবে ধীরে ধীরে মোবাইলের প্রতি আসক্তি বাড়ছে এই ছোট শিশুর। ছেলের কথা এভাবে বর্ণনা দেন নগরীর মিরের ময়দানের বাসিন্দা মাইনুল হোসেন।

মাইনুল হোসেন জানান, তাব্বাত নগরীর একটি একাডেমীর প্লে শ্রেনীতে পড়ালেখা করে । করোনাভাইরাসের কারণে তার একাডেমী বন্ধ রয়েছে । তাই বাসায় মায়ের কাছ থেকে পড়ালেখা করছে । তবে তা বেশি সময় নয় । কিছুক্ষণ পড়ালেখা করলে তাকে মোবাইলে গেইমের কথা বলে পড়াতে হয়। কিন্তু ছেলের এমন আচরণের ফলে মাইনুল হোসেন নিজে ছেলেকে নিয়ে বাসায় খেলাধুলা করেন এবং মোবাইল থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন ।

ইন্টারনেট যাকে একথায় বলা হয় বিশ্বগ্রাম । যোগাযোগের সবচেয়ে অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ইন্টারনেট । আর করোনাকালে এই ইন্টারনেটের প্রতি বাড়ছে আসক্তি । বাংলাদেশে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস অতিবাহিত করছে আজ ৪ মাস । সংক্রমণ ঠেকাতে শুরুতে থেকে স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । কয়েক দফায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা আসে এবং বর্তমানে তা চলছে । এদিকে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্ধ থাকবে । ফলে এই দীর্ঘসময় শিক্ষার্থীরা অনেকটা পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাবে ভেবে অনলাইনের মাধ্যমে ভার্চুয়াল ক্লাস ও সরকারী দফতরগুলোতে মিটিংয়ের সুযোগ করে দিয়েছে সরকার । এতে করে শিক্ষার্থীরা কিছুটা হলেও তাদের ক্ষতি-পুষিয়ে নিতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ।

★পরিবারের সদস্যদের সময় দেওয়া।
★শিশুদের বিনোদনের জন্যে বাসায় ব্যবস্থা করা
★বই পড়ার অভ্যাস করা।
★হাতের নাগালে পাচ্ছে ফোন ,ফলে আসক্তি বাড়ার
আশংকাটা বেশি।

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মানব জীবনে ইন্টারনেট তথা ভার্চুয়াল জগতের প্রভাব এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা। এটি বিজ্ঞানের আশীর্বাদ। কিন্তু এই আর্শীবাদ ততটাও অভিশাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । সময় এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে মানব জীবনে ইন্টারনেটের প্রভাব এখন এতটাই বেশি যে, শিশু থেতে তরুণদের মাঝে এখন তা সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। তবে এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের আবদার রক্ষায় বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে । কেননা বাইরে বের হওয়া এবং খেলার মাঠে খেলাধুলা সবটাই বন্ধ একটাই কারণ করোনাভাইরাস । আর তাই অবসর ও খেলার সাথী হিসেবে বেচে নেওয়া হয়েছে এই এন্ড্রুয়েট নামক ‘মোবাইল গেমিং’ বা বিভিন্ন ধরণের অ্যাপস । তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে ফেসবুক ও টিকটক। এই অ্যাপসের ভিতরে ডুবে আছে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা ।

ইন্টারনেট তথা ভার্চুয়াল জগতের কারণে ছেলেমেয়েরা পরিবারের কাছ থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে। তারা সময় পেলেই এখন স্মার্ট মোবাইল,ল্যাপটপ ও কম্পিউটার নিয়ে সময় কাটাচ্ছে। ভার্চুয়াল জগতের দুর্নিবার আকর্ষণে নানা রকমের ক্ষতির শিকারও হচ্ছে তারা। যার সর্বশেষ সংস্করণ হিসেবে এসেছে প্রাণঘাতী নানা গেম। এ ধরণের গেমস-এ আসক্ত হয়ে শিশু-কিশোর-তরুণরা বিভিন্ন পথ বেছে নিচ্ছে। আর এতে নতুন করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। এ থেকে উত্তরণের জন্য সন্তানদের বেশি সময় দেয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সন্তানদের অবহিত করা এবং তাদের নিজেদেরকেও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সমাজবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও প্রযুক্তিবিদরা।

ইন্টারনেট বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমের যতটা দোষ রয়েছে তার অনেকটা গুনও রয়েছে । তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভার্চুয়াল বা দূরদর্শন ক্লাস । শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সিলেটের সরকারী ও বেসরকারি বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে চালু করা হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস । দুর্যোগের এই সময়ে সরকারী মন্ত্রণালয়ের কাজ ঘরে বসে করছেন কর্মকর্তারা। তাছাড়া বাইরের দেশে করো খুঁজ খবর নিতে ইন্টারনেট ও মোবাইলের ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই নয় এ বছর সিলেটেসহপুরো দেশে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে । দেশের বেশিরভাগ চলছে এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে ।

এ ব্যাপারে কথা হলে শাহ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাবেদ কায়সার সিলেট প্রতিদিনকে , বলেন বর্তমান সময়টা আমাদেরকে সর্তকতার সাথে চলা উচিত । এক দিকে করোনাকাল অন্যদিকে খুব বেশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস মোবাইল ফোন,ট্যাব ব্যবহারে শিশু থেকে শুরু করে মধ্য বয়সীরা আসক্ত হয়ে যাচ্ছি । কারণ দীর্ঘদিন ধরে ঘরে বসে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্থতি চলে আসছে । তাই এখন তাদের বিনোদন কিংবা কাজের সঙ্গী হিসেবে বেচে নিচ্ছে মোবাইল ফোনকে । আর এতে করে তারা পরিবার ও সমাজ থেকে দূরে সরে যেতে পারে ।

তিনি আরও বলেনে, এই পরিস্থিতিতে আমাদের সবার উচিত হলো পরিবারের লোকজনকে সময় দেওয়া এবং নিজেদের মধ্যে একটা সুন্দর বন্ধত্ব তৈরি করে খেলাধুলা করা তাহলে এই ধরনের আসক্তি থেকে বের হওয়া সম্ভব ।আর তাই এখনি সময় পত্র-পত্রিকায়,টিভিতে আসক্তির ক্ষতির বিষয়গুলো বেশি বেশি করে প্রচার করা। তবে এই আসক্তির প্রভাব থেকে বাঁচতে বই পড়া কিংবা বাসার ছাদে বাগানে কাজ করা যেতে পারে তাহলে ক্লান্তিটা কিছুটা হলেও কেটে যাবে ।

এই বিষয়ে কথা হয় মনোরোগ ও স্নায়ু বিশেষজ্ঞ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাওসার আহমদের সাথে । তিনি জানান, মোবাইলের রেডিয়েশনের ফলে খুব কম রোগী পাওয়া যায়। তবে এর প্রভাবটা খুবই মারাত্মক। তবে দীর্ঘসময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে আমাদের ব্রেইনে সমস্যা দেখা দিতে পারে । তাই দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে । আর বাবা-মা সব সময় একটা নির্দিষ্ট সময়ে মোবাইল




পুরানো সংবাদ সংগ্রহ



© All rights reserved © 2019 Sylhetprotidin24.Com