রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ১১:১০ পূর্বাহ্ন


“মন্তব্য করাটা অধিকার হলে, শুধরে দেয়াটা দ্বায়িত্ব”

“মন্তব্য করাটা অধিকার হলে, শুধরে দেয়াটা দ্বায়িত্ব”

লিমন চন্দ : সাহেদ, সাবরিনা আপনারা আবারও, নচিকেতা স্যারের সেই কালজয়ী “ও ডাক্তার” গানটিকে ১০০% সত্য প্রমান করলেন।আমার মাঝে মাঝেই প্রচন্ড সন্দেহ হয় উনারা ডাক্তার হয় কেমনে? যাদের নিজের হৃদয় নেই।যারা কিনা আজও নিজেদের হৃদয়ই আজ পর্যন্ত তাদের শরীরে সেট করতে পারে নি। কি অদ্ভুত ব্যাপার। আজকে আমি থুনকো লিমন আপনাদের নিয়ে লিখার কথা ছিলো নাহ। কিন্তু আপনাদের কর্মে লিখতে বাধ্য হচ্ছি।

আচ্ছা আপনাদের আরএক নাম তো ভগবান!!
আপনাদের কি এই ভগবান নামটাকেও লজ্জিত করতে হৃদয় কাপে নি??ওহ সরি আপনাদের তো আবার হৃদয় নেই।বর্তমানে করোনা সেবায় নিয়োজিত সকল ডাক্তার ইভেন যারা প্রান দিয়েছে তাদের কথাও কি একবার ভাবেন নি?? ওহ ভাববেন কি আপনাদের তো মস্তিস্ক বিকৃত।আমার বিশ্বাস এই ঘঠনার পর সমগ্র জাতীর জীবনে একটাই প্রশ্ন কাজ করছে, যে নাহ জানি এমন আরও কত মানুষ রুপি কুলাঙ্গার, মানুষ নিয়ে ব্যবসায়ী কতো আছে।

আচ্ছা আপনাদের কি একবার এই চিন্তাটাও আসেনি? যে এই দূঃসময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেয়া এত্ত সব সাহসী পদক্ষেপ গুলোতে মানুষের ভাবমূর্তি এখন নেগেটিভেটিব হবে??রবীঠাকুরের সেই অমর লাইনটি এখন আমার ভাল লাগে। একটা সময় খারাপ লাগতো এই ভেবে যে, রবীন্দ্রনাথ আমরা সহজ সরল বাঙ্গালী কে মানুষ বলেন নি।

এখন তো দেখছি উনি সত্যিই লিখেছিলেন
“বাঙ্গালী করেছো প্রভু, মানুষ করো নি। দূর্নীতি তে আমাদের পরিসংখ্যান টা ১০০ তে ২৬ পেয়ে ১৪৬।
অনেক বার আমরা দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ও হয়েছি।
আসলে আমাদের যে এমন হাল হচ্ছে তার কলঙ্কিত কারন, এমন হাজারও সাহেদ,সাবরিনা,শহীদ ইত্যাদি ব্যাক্তিদের জন্য ।

আর একটা জিনিস লক্ষণীয়, যে কোন একটা কিছু হলেও নেত্রী কে বা একটা দলকে দোষারোপ। কেন ভাই এটা কেন হবে।একটা সিম্পল উদাহরণ দেয়া যাক। কোন একটা ফ্যামিলি এর প্রধান কখনও তার পরিবারের ধ্বংস চাইবে নাহ্ । ছোট বেলা বাবা বাজার করার জন্য বাবা ৫০০ টাকা দিলে ৪৭০ টাকার বাজার করে ৫০০ বলে চালিয়ে দিতাম।কিন্তু বাবা কখনো নিজে এটা করতো নাহ।কারন সংসার টা উনার দ্বায়ীত্বে ছিলো। যেদিন ধরা খাইতাম মাইরের শেষ নাই।টিক হয়ে যেতাম,শতহোক আমরা তো তাও সাহেদ,সাবরিনা ছিলাম নাহ।

এখন ভাবনা এবং প্রচন্ড উদ্দ্যেগের বিষয় হচ্ছে, আওয়ামীলীগের বদনাম রটানো টা একটা ট্রেডিশনে এ পরিনত হইছে।আচ্ছা আমার বাবা একাই যেদিন আমি ৩০ টাকা চুরি করে ধরা খাইছি, ঐ দিনেই যতা রীতি টিক করে দিছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মাননীয় নেত্রীর একটা পরিবারকে নয় একটা দেশকে চালাতে হয়। এখানে পরিবারের ব্যাস যদি ১০ হয় তবে একটা দেশের ব্যাস ১০ টু দি পাওয়ার ১০।

এমন বৃহৎ একটা অংশে দেশের প্রত্যেক জেলা থেকে একটা করে চুর কে, মানুষ রুপি পশুকে ধরতে বা খুজ নিলেও ৬৪ টি হবে। আমি আর এখন নাহয় হিসেবে গেলাম নাহ্।এমন ভাবে শত শত চুর টাউট আছে। আর যে সমাজ চুর টাউট দ্বারা পরিচালিত সে সমাজে ফিউচারেও তো চুর টাউটয়েই হবে। তাই আমি মনি করি একতরফা একটা দল বা দলের আরও ত্যাগী নেতা দের ঐ সব চুর, বাটপার,মানুষ বিক্রি কারী দের দূষ উনাদের উপর নাহ চাপিয়ে নিজেরাই টিক হই।যেখানেই দূর্নীতি সেখানেই প্রতিবাদ।কাওকে দোষারোপ নাহ করে ডাইরেক্ট একশনে যাওয়া উচিত।। এতে আমার বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও নিজে অনেকটা হালকা অনুভব করবেন এবং উনি সর্বাত্মক সহযোগিতাটাই করবেন।আরে ভাই, উনিও তো একজন মানুষ।এই বাজেট, এই করোনা,এই সাহেদ,সাবরিনা,শহীদ, এই লঞ্জ ডুবি,ধর্ষন এই বন্যা ইত্যাদি আর কত্ত ব্লেইম একটা সরকার বা একজন মানুষ কে দেয়া যায়।আমার বাজারের টাকা চুরি একদিনের একশনে আমার বাবা যেমন করে আমাকে ঠিক করে দিয়েছেন এভাবে মাননীয় নেত্রীর করতে হলে।আমাদের দেশে অন্তত এক আলোক বর্ষ লাগবে। আচ্ছা উনারও তো জীবন, উনার জীবনের সিকিউরিটি কে দেবে।কারন সমাজে এখন চুর বাটপার সিংহভাগ।

আর একটা কথা, যেটা নাহ বল্লেই নয়
আমি এত্ত সব দূর্যোগের এত্ত সব পজিটিভ কর্মকাণ্ডের খুব কম পরিমান ভাল মন্তব্য দেখছি।কেন?? এমনটা হবে কেন?? আপনি আমি দেশের মানুষ হিসেবে মন্তব্য করাটা কে যদি অধিকার ভাবি তবে আমি মনে করি সেই সমস্যা শুধরানো টা আপনার আমার দ্বায়িত্ব। এখন আপনি মন্তব্যের অধিকার নিবেন আর দ্বায়িত্ব পালন করবেন নাহ্ এইটা তো হয় নাহ।

মাননীয় নেত্রী ৫০ লাক্ষ দরিদ্র পরিবারকে নগত টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন। কই? কোথাও তো এটাকে নিয়ে কোন প্রশংসা হচ্ছে নাহ্।বরং বাজেটে চার আনা কর বাড়তেই আলোচনার শেষ নেই। দোষ করছে শাহেদ সাবরিনা আলোচনায় আসবে আমাদের নেত্রী,কেন? । চায়ের দোকানে, হাটেগাটে, আবাল- মূর্খ, বুঝে নাহ বুঝে বলবে এত্তসব সরকারি অনুদান কি উনার নিজের টাকায় দেয় নি।আরে বাবা নিজের নাহ আমাদের টাকাই আমাদের বাজেটে ব্যয় হয়, তাহলে এখন কিছুটা কর বাড়তেই লাগলো কেন??এই করো তো আমাদের কাজেই লাগাবেন। তাও কর তো আর আপনার মৌলিক অধিকারস্ত দ্রব্যের উপর বাড়ে নি।

আমি যতোটুকু দেখেছি কর বাড়ানো হয়েছে বডির জন্য নেগেটিভ ইলেম্যান্টস গুলোতে। আপনি চাইলে ঐ গুলো বাদ দিয়ে দেন। তাও নেত্রী তথা দেশকে নিয়ে আদার ব্যাপারী হইতে যাইয়েন নাহ্।সম্প্রতি আরেকটা জিনিস খুব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে,ডাক্তারকে নিয়ে সমালোচনা করার শেষ নাই।ভাই আপনারা এত্ত বেইমান কেন দেশে কতো গুলো বরেণ্য ডাক্তার আমাদের সেবা দিতে গিয়ে প্রান দিয়েছেন তার হিসেব কি রেখেছেন। ডাক্তার ভাল চিকিৎসা দেয় নাহ, ভাল সেবা দেয় নাহ্ ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে উনাদেরও বাঁচার অধিকার আছে।আচ্ছা আমি যতোটুকু জানি করোনাটা সংক্রমণের ফলে বিস্তার হচ্ছে।তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে রুগ হওয়ার আগে আপনি, আমি সেভ থাকছি নাহ কেন।

তখন আমরা বলি দোর করোনা, যা আছে কপালে,আল্লায় করোনায় আক্রান্ত করলে এমনেই হবে।আচ্ছা ভাই তাইলে আক্রান্ত হওয়ার পর ডাক্তার কে কেন দোষটা দেন। তখন কি এইটা বুঝেন নাহ্ বা বলতে পারেন নাহ্।যে কপালে থাকলে আর আল্লায় দিলে এমনিতেই সুস্থ হবো ।কি অদ্ভুত!অতীব্র জরুরি কাজ হচ্ছে সমাজের সংস্কার করা, কেননা এইসব শাহেদ,সাবরিনা,শহীদ কিন্তু আমাদেরই সমাজ থেকে গড়ে উঠা।আর আমরা জানি মানুষের গড়ে উঠার পিছনে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার প্রভাব ব্যাপক ।

অতএব আমরা ঐক্যবদ্ধ হই যে যার জায়গা থেকে এই ক্যান্সার আক্রান্ত সমাজকে সুস্থ করে তুলব। আর আমরা সুস্থ হওয়ার মানে সমাজ সুস্থ। টিক তখন আলটিমেটলি আমরা পাব স্বাভাবিক এবং সুন্দর, শাহেদ হীন একটি দেশ। যেখানে থাকবে নাহ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানব সভ্যতা থেকে বিলীন হওয়ার ভীতি।

লেখক :লিমন চন্দ,অতিথি শিক্ষক, তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।




পুরানো সংবাদ সংগ্রহ



© All rights reserved © 2019 Sylhetprotidin24.Com