শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৪:০৫ অপরাহ্ন


দায়িত্বশীলদের চোখে তাঁর ঘর যেন বড্ড বেমানান!

দায়িত্বশীলদের চোখে তাঁর ঘর যেন বড্ড বেমানান!

মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ :: শহরের সৌন্দর্যবর্ধন ও জীবনমান উন্নত করতে রাস্তাঘাটের পরিকল্পিত উন্নয়নের বিকল্প নেই। আবার পরিকল্পনায় ঘাটতি বা একক সিদ্ধান্ত মাঝেমধ্যে সামাজিক, পারিপার্শ্বিক ও ধর্মীয় অনুভূতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। যা কর্ণধার ব্যক্তিবর্গের ব্যক্তিত্ব, মেধা ও রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার অন্তরায় হয়। উদাহরণে যাব না।

জিন্দাপীর (র.)। যার নামানুসারে সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্র, শহরের নাভিখ্যাত জিন্দাবাজারের নামকরণ হয় বহু আগে। ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম এই মহান ওলী শুয়ে আছেন এই জিন্দাবাজারে। যে মাজার প্রাঙ্গনে বা মাজারকে কেন্দ্রকরে নেই শরয়ী বিরোধী সামান্যতমও কাজকাম।

ওলীপ্রেমীরা নীরবে সালাম দেয় যেখানে। যে পথ দিয়ে যাওয়া আসার পথে অনেক কোমল হৃদয়ের মানুষেরা তেলাওয়াত করেন, দুরুদ পড়েন, তাসবিহ পাঠ করেন। অনেকের স্মৃতিপটে ভেসে উঠে শাহজালাল (র.) ও তাঁর সঙ্গীদের ত্যাগ আর আমাদের বর্তমান বাস্তবতা। হা এটা শুধু তীক্ষ্ণতায় ভরপুর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন চোখগুলোর অধিকারীরাই অনুভব করেন।

আজও জিন্দাপীর (র.) জিন্দাবাজারে শুয়ে আছেন। তবে তার ঘর আর আগেরমত নয়। তথাকথিত পরিকল্পিত শহর উপহার দিতে দায়িত্বশীলদের চোখে তাঁর ঘর যেন বড্ড বেমানান। রাজদরবারের সামনে ফকীরের কুঁড়েঘর কি দেখতে মানায়? মোটেই না। তাই তাঁর ঘর ভাঙ্গতে হবে। কবরের মাটি পরিমাণ যে জায়গা দেয়া হচ্ছে তাই আবার কম কিসে?

আসুন জীবিতদের সম্মান দেই – মৃতদের তারচেয়ে বেশি দেই। ধন্যবাদ।

লেখক

সমাজকর্মী




পুরানো সংবাদ সংগ্রহ



© All rights reserved © 2019 Sylhetprotidin24.Com