সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন


প্রণোদনায় গতি ফিরছে বেসরকারি খাতের ঋণে

প্রণোদনায় গতি ফিরছে বেসরকারি খাতের ঋণে

  • 1
    Share

প্রতিদিন ডেস্ক: ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি জুলাই মাসে বেড়েছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় ঋণ বেড়েছে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। আগের মাস জুন শেষে যা ছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। মূলত করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রণোদনার ঋণের কারণেই প্রবৃদ্ধি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা। আগস্টে এই প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে বলে ধারণা তাদের।

সংশ্নিষ্টরা জানান, টানা ৯ বছর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্ক তথা ১০ শতাংশের ওপরে ছিল। তবে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরের পর গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো তা ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে নামে। ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে গত এপ্রিলে ৯ শতাংশের নিচে নেমে যায়। ওই মাসে প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৮২ শতাংশে নেমে যায়। গত জুনে আরও কমে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, এ সময়ে ঋণ প্রবৃদ্ধির বড় কারণ হচ্ছে প্রণোদনা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাপ থাকায় ঋণ বিতরণ বাড়ছে। আবার ব্যাংকগুলোর হাতে উদ্বৃত্ত টাকা থাকায় ব্যাংকাররাও চাচ্ছেন ঋণ বাড়ূক। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও ঘুরে দাঁড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কর্মী ছাঁটাই না করে কীভাবে এগোনো যায় সেই চেষ্টা করছে। এসব কারণে ঋণ চাহিদা বেড়েছে। অর্থনীতির জন্য এটা ভালো খবর। তবে এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে এক খাতের নামে ঋণ নিয়ে অন্য খাতে যেন ব্যবহার না হয় এবং যেসব ব্যাংক ধীরে এগোচ্ছে সেদিকে নজর দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯৫ হাজার ২০২ কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসে যার পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ২ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে এক বছরে ঋণ বেড়েছে ৯২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা বা ৯ দশমিক ২০ শতাংশ।

জানতে চাইলে সীমান্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুখলেসুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রণোদনার ঋণ বিতরণের কারণে হয়তো প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে এখনও সেভাবে ঋণ চাহিদা তৈরি হয়নি। অবশ্য রপ্তানি বাড়ছে। আশার বিষয় হলো, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্যুরিজম, এয়ারলাইন্সসহ কিছু খাত ছাড়া অনেক ব্যবসা ভালো করছে। সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতে এখন তারল্য পরিস্থিতিও ভালো আছে। ফলে আগামীতে চাহিদা বাড়বে বলে ধারণা করা যায়।

করোনাভাইরাসের ক্ষতি পোষাতে সরকার প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর বড় অংশই ঋণ হিসেবে বিতরণ করবে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে শিল্প ও সেবা খাতে ৩৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। সিএমএসএমই খাতের ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বিতরণ হয়েছে প্রায় ৩৮০০ কোটি টাকা। রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানে বেতন-ভাতার জন্য সরকার থেকে দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলে নতুন করে প্রায় ১২ হাজার ৭২০ কোটি টাকা, কৃষি খাতে চলতি মূলধনের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন এবং নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিলের একটি অংশ বিতরণ হয়েছে।

সিলেট প্রতিদিন/এএইচ


  • 1
    Share






© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com