রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৩ অপরাহ্ন


১০ ওভারে ১৬২! অবিশ্বাস্য ম্যাচ জিতল পাঞ্জাব

১০ ওভারে ১৬২! অবিশ্বাস্য ম্যাচ জিতল পাঞ্জাব


ক্রীড়া ডেস্ক :: শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ জিতেছে সাউদার্ন পাঞ্জাব। টুর্নামেন্টের শেষ চারের টিকিট পেতে তাদের ১২.৩ ওভারে করতে হতো ১৬২ রান। এই সমীকরণ মাথায় নিয়ে খেলতে নেমে মাত্র ১০.৪ ওভারেই ১৬৬ রান করে ফেলেছে পাঞ্জাব।

বেলুচিস্তান ও সাউদার্ন পাঞ্জাবের মধ্যকার ম্যাচটি ছিলো ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপের প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচ। নির্ধারিত ১০ ম্যাচ খেলার পর আগেই শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছিল নর্থ পাকিস্তান, খাইবার পাখতুন ও সিন্ধ। চতুর্থ টিকিটের জন্য অপেক্ষা ছিলো তিনটি দলের- বেলুচিস্তান, সাউদার্ন পাঞ্জাব ও সেন্ট্রাল পাঞ্জাব।

শেষ ম্যাচটির আগে দশ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট ছিলো সেন্ট্রাল পাঞ্জাবের, বেলুচিস্তানের ছিলো ৯ ম্যাচে ৮ ও সাউদার্ন পাঞ্জাবের ছিলো ৯ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট। ফলে পরিস্থিতি ছিলো বেলুচিস্তানের পক্ষে। কেননা শেষ ম্যাচে তারা জিতলে সরাসরি চলে যেতো শেষ চারে। এমনকি কম ব্যবধানে হারলেও নেট রানরেটের কল্যাণে পেতো শেষ চারের টিকিট।

কিন্তু শুক্রবার সব সমীকরণ ওলটপালট করেন সাউদার্ন পাঞ্জাবের ব্যাটসম্যানরা। রীতিমতো সাইক্লোন ব্যাটিং করে মাত্র ১০.৪ ওভারেই করে ফেলেন ১৬৬ রান, যা তাদের জয়ের পাশাপাশি এনে দেয় অস্বাভাবিক রানরেট। এর সুবাদে সেন্ট্রাল পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে সাউদার্ন পাঞ্জাব।

ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান করে বেলুচিস্তান। ওপেনার ইমাম উল হক ৩৭ বলে ৪৮, উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান বিসমিল্লাহ খান ৩৫ বলে ৪১ ও শেষদিকে ঝড় তুলে ২১ বলে ৩৭ রান করেন আকবর-উর-রেহমান। দুই উইকেট নেন মোহাম্মদ ইমরান।

খালি চোখে সাউদার্ন পাঞ্জাবের সামনে লক্ষ্য ছিলো ২০ ওভারে ১৬২ রানের কিন্তু আসলে তাদের এই রান করতে হতো ১২.৩ ওভারের মধ্যে। কেননা এর বেশি ওভার খরচ হয়ে গেলে ম্যাচ জিতলেও সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়া হতো না তাদের। এই সমীকরণ মাথায় নিয়েই ব্যাটিংয়ে নামে সাউদার্ন পাঞ্জাব।

১২.৩ ওভারে রান তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৫.৩ ওভারেই ৮৭ রান করে ফেলেন দুই ওপেনার জিসান আশরাফ ও শোহাইব মাকসুদ। জুটি ভাঙে জিসানের বিদায়ে, আউট হওয়ার আগে ১০ বলে ২১ রান করেন তিনি। এ জুটিতে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন মাকসুদই।

উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর সমীকরণ মেলাতে ৪২ বলে আরও ৭৫ করতে হতো পাঞ্জাবের। পরের ৬ বলে আরও ১৭ রান করে সাজঘরে ফিরে যান মাকসুদও। আউট হওয়ার আগে ১৩ চার ও ৪টি ছয়ের মারে মাত্র ২৯ বলে ৮১ রান করেন ৩৩ বছর বয়সী এ ওপেনার। বিধ্বংসী এ ইনিংস খেলার পথে ১৭ বলে পঞ্চাশ পূরণ করেছিলেন তিনি।

মাকসুদের বিদায়ের সময় পাঞ্জাবের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০৪ রান। অর্থাৎ ৩৫ বলে তাদের করতে হতো আরও ৫৮ রান। এ সমীকরণের চাপ নিতে পারেননি দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া খুশদিল শাহ, আউট হয়ে যান ৫ বলে ৮ রান করে। তখন আরও বেড়ে যায় পাঞ্জাবের চাপ, ৩০ বলে বাকি থাকে ৪৯ রান।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে আবারও ঝড় তুলে ১১ বল হাতে রেখেই এ সমীকরণ ছুঁয়ে ফেলেন আমির ইয়ামিন ও হুসাইন তালাত। দুজন মিলে মাত্র ১৯ বলে গড়েন ৫৩ রানের জুটি। আমির ৯ বলে ১ চার ও ৪ ছয়ে ৩৩ এবং তালাত ১১ বলে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন। মাত্র ১০.৪ ওভারে ম্যাচ জিতে সেমির টিকিট পায় পাঞ্জাব।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ





পুরানো সংবাদ

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  


© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com